রাকিব গ্রামের সরু পথে দৌড়ে এসে মেয়েটির বাবার সামনে থামল। কুয়োর দড়ি কিঁচকিঁচ করল।
রাকিব বলল, “আমি মেয়েটিকে ভালোবাসি। আমরা বিয়ে করতে চাই।” বাবা চুপ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
বাবা হাত তুলে বললেন, “না।” তারপর দরজা ধপ করে বন্ধ হলো।
রাকিব দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। ভেতর থেকে হাঁড়ির টুংটাং শব্দ এল। সে ভাবল, “আমি হাল ছাড়ব না।”
রোদে রাকিব গ্রামের ভাঙা রাস্তা মেরামত করল। কোদালের ঠকঠক শব্দে ধুলো উড়ল।
বৃষ্টিতে রাকিব ছাতা ধরে মেয়েটির বাবাকে কাদা পার করল। বাবা কিছু বললেন না।
প্রতিদিন রাকিব সম্মানের সঙ্গে বিয়ের কথা বলত। একদিন তাঁর কাদামাখা জুতো দেখে বাবার কঠিন মুখ নরম হলো।
বাবা আবার না বলতে মুখ খুললেন। ঠিক তখনই ভাঙা সেতুতে তাঁর ঝুড়ি আটকে গেল।
রাকিব সেতুর ওপর উঠে ঝুড়িটি তুলল। সে ধীরে ধীরে নিরাপদ পাড়ে ফিরে এল।
একটি আম গড়িয়ে বাবার পায়ে থামল। বাবা হেসে বললেন, “রাকিব, তোমার দৃঢ়তা সত্যি।”
বাবা বললেন, “তোমাদের বিয়েতে আমার সম্মতি আছে।” পাশের জানালায় মেয়েটি হাসল।
ছোট্ট গ্রামে ঢোল বাজল, আমের গন্ধ ছড়াল। রাকিব ও মেয়েটি পাশাপাশি হাঁটল, সামনে খোলা পথ।